Date: May 03, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / রাজশাহী / আক্কেলপুরে বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে: হাঁটু পানিতে ধান কাটার যুদ্ধ - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প...

আক্কেলপুরে বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে: হাঁটু পানিতে ধান কাটার যুদ্ধ

May 03, 2026 02:49:02 PM   ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
আক্কেলপুরে বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে: হাঁটু পানিতে ধান কাটার যুদ্ধ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় এখন পুরোদমে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। মাঠের নিচু এলাকায় জমে থাকা হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে কৃষকরা তাদের কষ্টে ফলানো সোনালী ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। ফলন ভালো হলেও তাদের মনে শান্তি নেই। বাজারের কম দাম, জ্বালানি তেলের সংকট আর হুটহাট বৃষ্টির আশঙ্কা কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

উপজেলায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে উৎপাদন ভালো হওয়ার খুশির চেয়েও এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাড়তি খরচ আর বিরূপ আবহাওয়া। কৃষকরা বলছেন, একদিকে ধানের দাম কম, অন্যদিকে মাড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের অভাব কাজটিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এছাড়া মাঠের ধান দ্রুত ঘরে তুলতে না পারলে হঠাত বৃষ্টিতে সব নষ্ট হওয়ার ভয় তো আছেই।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে আক্কেলপুর উপজেলায় ১০ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফলন হয়েছে এবং আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন।

সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক ও শ্রমিকরা দিনরাত এক করে কাজ করছেন। কিন্তু ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহে সংকট থাকায় মাড়াই করার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। জাফরপুর গ্রামের কৃষক হাজিকুল ইসলাম বলেন, আমি ১০ বিঘা জমিতে জিরা জাতের ধান লাগিয়েছি। শিলাবৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হয়েছিল। এখন আবার বৃষ্টির ভয় কাজ করছে। ধান দ্রুত ঘরে তুলতে না পারলে বড় ধরণের বিপদে পড়ে যাব। তার ওপর বাজারে ধানের দাম বেশ কম, কিন্তু আবাদের খরচ অনেক বেশি। তিনি জানান, বাজারে বর্তমানে জিরা ধান প্রতি মণ ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা দিয়ে খরচ তোলাও কঠিন।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকার যেন ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করে এবং ফসল কাটার এই সময়ে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এমরান হোসেন বলেন, আক্কেলপুরের কৃষকরা ধান চাষে বেশ অভিজ্ঞ। আমরা তাদের সব ধরণের পরামর্শ দিচ্ছি। এ বছর ফলনও চমৎকার হয়েছে। তবে আবহাওয়া যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে, তাই আমরা কৃষকদের সচেতন করছি যেন তারা দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলেন।

আক্কেলপুরের কৃষকদের সামনে এখন প্রধান লক্ষ্য হলো হাড়ভাঙা খাটুনির পর ধানের সঠিক দাম পাওয়া এবং যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসার আগেই ফসলটুকু সুরক্ষিত করা। এ জন্য তারা প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করছেন।