


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছেন এক বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া। তিনি দাবি করেছেন, এবারের নির্বাচনে তাদের লড়াই কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ছিল না; বরং সরাসরি ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে। তার এই বক্তব্যে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সূচনা হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন ধাপে এমন সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করেছে এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রতিকূল অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।
তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাষ্ট্রীয় যন্ত্র এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তার দাবি, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে জনগণের ভোটে জয়ী হয়নি; বরং নির্বাচন কমিশনকে “ঢাল” হিসেবে ব্যবহার করে তারা এই জয় নিশ্চিত করেছে।
মমতা আরও বলেন, নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার নানা স্তরে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা একটি অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করেছে। এর ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি লড়াইটি কেবল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হতো, তাহলে জনগণ তার উপযুক্ত জবাব দিত। কিন্তু যখন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষতা হারায়, তখন গণতন্ত্রই হুমকির মুখে পড়ে। তার ভাষায়, “আমাদের আসল লড়াই ছিল ইসি’র অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় তার দলের কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে নানা ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। যেখানে একদিকে বিজেপি এই ফলাফলকে জনরায়ের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি এই ফল সহজে মেনে নিতে রাজি নন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুকে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে সামনে এগিয়ে নিতে পারেন, যা ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন করে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে।