


নড়াইলের সদর উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, একদল পাওনাদার একটি বসতঘরের চালার টিন, বেড়া, রান্নাঘরের খুঁটি এবং আসবাবপত্র পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নারী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামে বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে, যা শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, রুখালী গ্রামের জাহিদ সিকদার একই এলাকার কয়েকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা ধার নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে পাওনাদাররা টাকা ফেরত চাইলে তিনি সময়ক্ষেপণ করেন এবং এক পর্যায়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান।
এরপর নির্ধারিত সময়ে টাকা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে একদল পাওনাদার তার বাড়িতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা প্রথম দফায় বসতঘরের চালার টিন ও বেড়া খুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আবার ফিরে এসে রান্নাঘরের চালা, ঘরের খুঁটি এবং বিভিন্ন আসবাবপত্রও খুলে নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন ৮০ বছর বয়সী খাতিজা বেগম। তিনি বলেন,
ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি। পরে লাঠি ভর দিয়ে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পে গেলেও তৎক্ষণাৎ কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, পুলিশ সময়মতো এলে ঘর ভাঙা ঠেকানো যেত।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জাহিদের বাবা জাফর সিকদার অভিযোগ করেন,
পাওনাদাররা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঘরের টিন, বেড়া ও অন্যান্য মালামাল খুলে নিয়ে যায়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের একজন মিকাইল বিশ্বাস দাবি করেন, জাহিদের কাছে তার টাকা পাওনা রয়েছে এবং একটি মোবাইল ফোন বন্ধক রাখার ঘটনায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই ক্ষতিপূরণ হিসেবেই এসব সামগ্রী নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক সুব্রত কুমার দাস বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া জানান, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে থানায় জানানো হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।