


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আদায় শুরু করেছে ইরান। এই উদ্যোগ থেকে প্রথমবারের মতো আয় সংগ্রহের তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটি, যা বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইরানের পার্লামেন্টের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানায়।
পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে আদায় করা টোল থেকে প্রথম আয় ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে। তবে কত অর্থ আদায় হয়েছে বা কোন দেশ বা কোম্পানি এই অর্থ পরিশোধ করেছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের এই দাবির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোর একটি। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে এই জলপথ এখন তীব্র উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইরান এই রুটে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে সীমিত জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।
ইরানের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিশন চলতি বছরের ৩০ মার্চ টোল আরোপের পরিকল্পনা অনুমোদন করে। এরপর ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয় বলে জানা গেছে।
তবে ইরানের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে পশ্চিমা বিশ্ব। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সহ পশ্চিমা নেতারা হরমুজ প্রণালি সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ একাধিক দেশ এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজে টোল আদায়ের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে, যা আগামী দিনে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।