


বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মঞ্চনাটকের একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক, অভিনেতা ও নাট্যনির্দেশক আতাউর রহমান আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় ও নাট্যচর্চার মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করা এই গুণী মানুষটি সোমবার দিবাগত রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে সহকর্মী, ভক্ত এবং সংস্কৃতিপ্রেমীদের মাঝে নেমে এসেছে শোক ও শূন্যতার আবহ।
সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু। তিনি বলেন, দেশের নাট্যাঙ্গন আজ একজন অভিভাবককে হারালো, যার অভাব সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৮ মে) নিজ বাসায় দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর দ্রুত তাকে রাজধানীর গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে পরে ধানমন্ডির আরেকটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির খবর পাওয়া গেলেও রোববার রাত থেকে আবারও জটিলতা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার গভীর রাতে চিরবিদায় নেন দেশের নাট্যজগতের এই প্রখ্যাত মানুষটি।
বাংলাদেশের মঞ্চনাটক আন্দোলনের সঙ্গে আতাউর রহমানের নাম জড়িয়ে আছে বহু দশক ধরে। অভিনয়, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম—সব ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন শক্তিশালী অবদান। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের গড়ে তুলতেও তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃতি অঙ্গনে তার নিবেদন ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন দেশের অন্যতম রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা।
সহকর্মীরা বলছেন, আতাউর রহমান শুধু একজন অভিনেতা বা নির্দেশক ছিলেন না, তিনি ছিলেন নাট্যাঙ্গনের একজন পথপ্রদর্শক। মঞ্চকে তিনি দেখতেন সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে। তার নির্দেশিত নাটকগুলোতে সমাজবাস্তবতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে আসত।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা। অনেকেই স্মরণ করছেন তার সঙ্গে কাটানো সময়, তার আন্তরিকতা এবং নাটকের প্রতি অসীম ভালোবাসার কথা।
একজন শিল্পীর মৃত্যু হয়তো একটি জীবনের সমাপ্তি, কিন্তু তার সৃষ্টি ও অবদান বেঁচে থাকে মানুষের হৃদয়ে। আতাউর রহমানও তেমনি বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তার কাজ, সংগ্রাম ও শিল্পপ্রেমের জন্য।