


নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দক্ষিণ সাধারচর গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১০ দিন ধরে অনশন করছেন উম্মে হানি (১৮) নামে এক তরুণী। দীর্ঘ দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমিক শাহিন মিয়া (২৩) আত্মগোপন করায় এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ সাধারচর গ্রামের বাসিন্দা গোলজার মিয়ার ছেলে মো. শাহিন মিয়া সঙ্গে প্রায় দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল উম্মে হানির। এই সময়ের মধ্যে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শাহিন। তবে সম্প্রতি বিয়ের জন্য চাপ দিলে হঠাৎ করেই তিনি গা ঢাকা দেন। এতে হতাশ ও অসহায় হয়ে পড়েন উম্মে হানি।
এরপরই প্রেমিকের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন তিনি। তার একটাই দাবি—শাহিন মিয়াকে বিয়ের মাধ্যমে তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে হবে। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে সরবেন না বলেও দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন। এমনকি দাবি না মানা হলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি, যা পুরো এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দীর্ঘ ১০ দিনের অনশনে উম্মে হানির শারীরিক অবস্থা এখন খুবই নাজুক। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু অবহেলাই নয়, বরং প্রেমিকের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং মানসিকভাবে নির্যাতনও করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন বলে জানা গেছে। তবে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন।
এদিকে ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, তারা বিষয়টি নিয়ে পলাশ ও শিবপুর থানায় একাধিকবার অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। এক থানা থেকে অন্য থানায় যেতে বলা হওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া জানান, তরুণীর বাড়ি অন্য থানার অধীনে হওয়ায় সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট থানা বিষয়টি আমলে নিলে তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে—এই তরুণীর দাবি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।