


বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, দেশের মেধা, সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাবে পরিণত হবে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে যৌথ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, দক্ষ মানবসম্পদ এবং ক্রমবর্ধমান শিক্ষা অবকাঠামো। এই শক্তিগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর মতে, শুধু অবকাঠামো নয়, মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা খাতে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোকে বাংলাদেশে আকৃষ্ট করার জন্যও সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।
তিনি অতীতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বল্প সময়ের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেও উল্লেখযোগ্য কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একইভাবে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াও শিক্ষা উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা করেছিলেন। বর্তমান সরকারও শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশে একসময় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে আসতেন-এই ঐতিহ্য আবারও ফিরিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে অবদান রাখার প্রবণতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
উচ্চশিক্ষা খাতকে আরও কার্যকর করতে স্টেকহোল্ডারদের মতামত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্কলারশিপ প্রদান এবং ট্রাস্টভিত্তিক পরিচালনার বিষয়গুলো পর্যালোচনার কথাও জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে চায়, যাতে শিক্ষা খাত আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর মামুন আহমেদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। আলোচনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।