Date: May 01, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / শিক্ষাঙ্গন / গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরামর্শক পদে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরামর্শক পদে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান

April 29, 2026 08:33:18 AM   অনলাইন ডেস্ক
গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরামর্শক পদে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান

দেশের উচ্চশিক্ষা ও উন্নয়ন ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে নিয়াজ আহমদ খান যোগ দিয়েছেন গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য ‘সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার’ পদে দায়িত্ব নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নীতিনির্ধারণ ও কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।


গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়–এর পরামর্শক (সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই তিনি এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান দেশের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি পদত্যাগ করেন। তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাব্যবস্থার ওপর গভীর দৃষ্টিভঙ্গি নতুন এই দায়িত্বে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস-এর ‘তিন শূন্য’ দর্শন-শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ—কে ভিত্তি করেই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সাজানো হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে পাঁচটি স্কুলের অধীনে ১৪টি অগ্রাধিকারমূলক প্রোগ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎমুখী ও সমাজকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংগঠনিক কাঠামোও বর্তমানে গড়ে তোলা হচ্ছে। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২৫ সালের মার্চে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে এবং পরবর্তী সময়ে এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকেও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় একটি ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হবে, যেখানে সদস্যরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা কোনো ধরনের পারিশ্রমিক বা বৈঠক ভাতা গ্রহণ করবেন না, যা প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়াজ আহমদ খানের মতো অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদের সম্পৃক্ততা গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও কৌশল নির্ধারণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনে সহায়ক হতে পারে।