Date: May 17, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / রংপুর / বিরামপুরের চমক ২০ লাখ টাকার ‘মহারাজা’ দেখতে মানুষের ঢল - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

বিরামপুরের চমক ২০ লাখ টাকার ‘মহারাজা’ দেখতে মানুষের ঢল

May 17, 2026 06:51:38 PM   অনলাইন ডেস্ক
বিরামপুরের চমক ২০ লাখ টাকার ‘মহারাজা’ দেখতে মানুষের ঢল

দিনাজপুর প্রতিনিধি:
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় একটি বিশাল আকৃতির ষাঁড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। উপজেলার খানপুর দক্ষিণ শাহাবাজপুর গ্রামের খামারি লুৎফর রহমানের খামারে বেড়ে ওঠা এই ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘মহারাজা’। প্রায় ১ হাজার ২০০ কেজি ওজনের এই পশুটির সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা।

বিশাল দেহ আর রাজকীয় গড়নের কারণে এলাকাবাসী আদর করে গরুটির এই নাম দিয়েছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ এক নজর মহারাজাকে দেখতে ভিড় করছেন। দর্শনার্থীরা ছবি ও ভিডিও করার পাশাপাশি পরিবার নিয়ে আসছেন বিরামপুরের সবচেয়ে বড় এই ষাঁড়টি দেখতে।

খামারি লুৎফর রহমান পেশায় একজন চালক হলেও পশুপালনের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি একটি ছোট বাছুর কিনে লালন-পালন শুরু করেন। সন্তানের মতো যত্নে বড় করে তোলায় সময়ের সাথে সাথে গরুটির আকার বাড়তে থাকে এবং বর্তমানে এটি এলাকার অন্যতম বড় পশুতে পরিণত হয়েছে।

লুৎফর রহমান জানান, মহারাজাকে তিনি পরিবারের সদস্যের মতো মনে করেন। কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে তাকে বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন এই ষাঁড়টির জন্য খড়, ভুট্টা, কাঁচা ঘাস, ভুসি ও খৈলের পাশাপাশি আপেল ও কলার মতো ফলও দেওয়া হয়। প্রতিদিনের খাবার খরচ বাবদ তার ২ হাজার টাকারও বেশি ব্যয় হয়। নিয়মিত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গরুটির পরিচর্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল রহমান জানান, এত বড় গরু তাদের এলাকায় আগে কখনও দেখা যায়নি। এটি দেখে তার নিজেরও গরু পালনের আগ্রহ জন্মেছে। আরেক দর্শনার্থী আহাদ বারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও দেখে ষাঁড়টি দেখতে এসেছেন। তার মতে, গরুটি বেশ শান্ত ধরণ এর এবং দেখতে অসাধারণ।

বিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপুল কুমার চক্রবর্তী জানান, এবার উপজেলায় ৩৯ হাজারের বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। ছোট-বড় প্রায় ৫ হাজার খামারিকে তারা নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসা দিয়ে সহযোগিতা করছেন। তিনি আরও জানান, খানপুরের মহারাজা বর্তমানে জেলার অন্যতম বড় ষাঁড় এবং এমন বড় গরু এই উপজেলায় এবারই প্রথম লালন-পালন করা হয়েছে।

ঈদের সময় যত এগিয়ে আসছে, মহারাজাকে নিয়ে মানুষের কৌতূহল তত বাড়ছে। স্থানীয়দের ধারণা, পশুর হাটে এই ষাঁড়টি বড় আকর্ষণ হবে এবং রেকর্ড দামে বিক্রি হতে পারে। পশুপালনের এই ধরণ স্থানীয় অন্য খামারিদেরও বেশ অনুপ্রাণিত করছে।