


রাজধানীর ফুটপাত ও রাস্তায় হকারদের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া কতটা আইনসম্মত—এ বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। ঢাকার হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেছেন। এতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে কেন এই নীতিমালাকে সংবিধানবিরোধী ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
মঙ্গলবার (আজ) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী-এর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। আদালতের এই নির্দেশে রাজধানীতে হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আইনি ও প্রশাসনিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আদালত বিশেষভাবে জানতে চেয়েছেন, ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালার আলোকে রাস্তা ও ফুটপাতে হকারদের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না এবং কেন এটি বেআইনি হিসেবে ঘোষণা করা হবে না।
এই রুলের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হলে তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে যে এই নীতিমালা জনস্বার্থ ও নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মো. শোয়েবুজ্জামান। তিনি ঢাকার হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬-এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তার যুক্তি অনুযায়ী, ফুটপাতে বাণিজ্যিক বরাদ্দ নগর পরিকল্পনা ও নাগরিক চলাচলের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
আইনজীবীদের মতে, এই মামলার রুলের ফলে এখন সরকারের নীতিগত অবস্থান ও বাস্তবায়ন কাঠামো আদালতে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। এতে রাজধানীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনা ও হকার পুনর্বাসন নীতি নিয়ে নতুন করে আইনি দিকগুলো সামনে আসতে পারে।
হাইকোর্টের এই রুল রাজধানীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনা ও হকার নীতিমালা নিয়ে নতুন বিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়ার সূচনা করেছে।