


মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের সামনে শেষ ইনিংসে লক্ষ্য ছিল ২৬৮ রান। হাতে ৭ উইকেট নিয়ে চা বিরতিতে স্বস্তিতে থাকা সফরকারীরা শেষ সেশনে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানার ভয়ঙ্কর স্পেলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় একেবারে। তার আগুনে বোলিংয়ে মাত্র ৪৭ রান যোগ করতেই শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান অলআউট হয়ে যায় ১৬৩ রানে। ফলে ১০৪ রানের দারুণ জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ, আর সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই চাপ তৈরি করে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইমাম-উল হককে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। যদিও মধ্যভাগে আব্দুল্লাহ ফজল ও অধিনায়ক সালমান আগার জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, তবে সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
সবচেয়ে বড় ধস নামে শেষ সেশনে, যখন নাহিদ রানা বল হাতে তাণ্ডব শুরু করেন। তার গতি ও আগ্রাসনের সামনে একের পর এক ব্যাটার দাঁড়াতে পারেনি। তিনি একাই ৫ উইকেট শিকার করেন ৪০ রানে, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার। অন্যদিকে তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদও সমানভাবে সহায়তা করেন, দুজনই নেন ২টি করে উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ১ উইকেট।
পাকিস্তানের ইনিংসে আব্দুল্লাহ ফজল সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন। এছাড়া সালমান আগা করেন ২৬ রান। তবে নাহিদ-তাসকিন-তাইজুলের যৌথ আঘাতে একে একে ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে তোলেন শান্ত-মুমিনুল-মুশফিকরা। জবাবে পাকিস্তান করে ৩৮৬ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ২৪০ রানে ৯ উইকেটে ইনিংস ঘোষণা করলে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ২৬৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল কার্যকর। বিশেষ করে তরুণ পেসার নাহিদ রানা শেষ দিনে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে হয়ে ওঠেন জয়ের নায়ক।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা সাফল্য ধরে রাখল এবং দেশের মাটিতে আরও একটি ঐতিহাসিক টেস্ট জয় উপহার দিল দর্শকদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ২৪০/৯
পাকিস্তান: ৩৮৬ ও ১৬৩
ফলাফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী