


কুষ্টিয়ার হরিপুরে পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে ‘কালু বাহিনী’র হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ও হরিপুর সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে নৌ পুলিশের এক পরিদর্শকসহ (ওসি) অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের থেকে জানা গেছে, পদ্মা নদীর ডিগ্রি চর ও হরিপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাতের আধারে বালু লুট করে আসছে কালু বাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ থানার ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম তার দল নিয়ে সেখানে অভিযানে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই বালু দস্যুরা অতর্কিত গুলি শুরু করে। এতে পরিদর্শক শফিকুল ইসলামসহ কনস্টেবল নাজমুল, শাহিনুর, পলাশ, মানিক এবং নৌকার মাঝি তুহিন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই কালু বাহিনী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এই চক্রের মূল হোতা কালু বর্তমানে ভারতে বসে পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছে। তার নির্দেশে মাঠপর্যায়ে ইসলাম, রকিব কামার, রাজু, জাকির, কাটা রফিক, হযরত বাঙাল, ইমদাদুল, সামির, মামুন ও মিলনসহ বেশ কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। পহেলা বৈশাখের দিনও তারা প্রকাশ্যে মাইকিং করে চাঁদা দাবি করেছিল এবং বাজারে গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় এই বাহিনীটি একের পর এক অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাদের ভয়ে চরের কৃষকরা জমিতে কাজ করতে পারছেন না। জমি দখল ও নিয়মিত চাঁদা দাবির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। যৌথ বাহিনী এর আগে কয়েকবার অভিযান চালালেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
রাজশাহী রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত নৌ পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং জড়িতদের ধরতে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।