


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে ফেরত যেতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করছে।
শনিবার (১৬ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে ইরানের এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ইরানি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও সামরিক অবস্থানকে সরাসরি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ব্যয় শেষ পর্যন্ত সাধারণ মার্কিন নাগরিকদেরই বহন করতে হবে। তিনি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার একটি চিত্রও শেয়ার করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন—যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আরও বড় সংকটে পড়বে।
আরাঘচির মতে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে অস্থিরতা এবং ঋণ সংকট ইতোমধ্যেই চাপ তৈরি করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গৃহঋণ ও গাড়ি ঋণের সুদের হার বাড়তে থাকলে সাধারণ জনগণের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়ে যাবে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ঋণ খেলাপির হার গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে কটাক্ষ করে বলেন, বিশাল ঋণের বোঝা নিয়ে ওয়াশিংটন যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে নতুন বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ডেকে আনতে পারে। তার মতে, সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দীর্ঘমেয়াদি বন্ড উচ্চ সুদে বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইরানি নেতাদের এই প্রতিক্রিয়া আসে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াচ্ছে।
বর্তমান সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ চলছে। ইরান দাবি করছে, প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহল এটিকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত জলপথ হিসেবে দেখছে।
ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী জাহাজগুলোই কেবল পারাপারের অনুমতি পাবে, আর যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সমর্থনকারী দেশের জাহাজ চলাচল সীমিত বা বন্ধ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হওয়ায় এই অঞ্চলের যেকোনো উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এরই মধ্যে চলমান অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।