


আজ ১২ মে, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। আধুনিক নার্সিং পেশার পথিকৃৎ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে। রোগীদের সেবা ও জীবনরক্ষায় নার্সদের অবদানকে স্মরণ ও সম্মান জানাতেই এই আয়োজন।
এ বছরের আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-
আমাদের নার্স। আমাদের ভবিষ্যৎ-জীবন রক্ষায় প্রয়োজন, নার্সদের ক্ষমতায়ন।
প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে নার্সদের পেশাগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নার্সদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে।
দিবসটি উপলক্ষে সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটস দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে র্যালি, কেক কাটা এবং আলোচনা সভা, যা নার্সদের অবদানকে সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয়েছে।
আজ সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নার্সরা অংশগ্রহণ করেন। র্যালিতে নার্সদের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধির দাবি তুলে ধরা হয়।
দিবসটির মূল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে। সেখানে স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব, নার্স নেতৃবৃন্দ ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সভায় সভাপতিত্ব করবেন নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি জাহানারা পারভীন। আলোচনায় নার্সদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, জনবল সংকট, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যখাতে তাদের ভূমিকা আরও কার্যকর করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশে ১৯৭৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নার্স দিবস পালন শুরু করে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। শুরুতে সীমিত পরিসরে পালিত হলেও বর্তমানে এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিবসে পরিণত হয়েছে। এখন দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দিনটি ব্যাপকভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক নার্স দিবস শুধুমাত্র একটি উদযাপন নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবায় নার্সদের অপরিসীম অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।