


দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে দুজনের মৃত্যু সরাসরি হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে হাম সংক্রমণ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে এবং হাসপাতালে রোগীর চাপও বেড়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৩ জনে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
সংক্রমণের দিক থেকেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৭২৬ জন। অন্যদিকে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ হাজার ৯৭৯ জনে পৌঁছেছে, যা রোগটির বিস্তারের মাত্রা নির্দেশ করছে।
হাসপাতালগুলোতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে ভর্তি হয়েছেন ২৯ হাজার ৮৩১ জন রোগী। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৬ হাজার ৩৬৮ জন। তবে এখনও অনেক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যা স্বাস্থ্যসেবায় চাপ সৃষ্টি করছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তারা অভিভাবকদের শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
হামের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।