


দেশের বিভিন্ন কলেজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্সের মান নিশ্চিত করতে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্য জানিয়েছেন, যেসব কলেজে সঠিকভাবে এসব কোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে না, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে সেশনজট কমানো, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা চালু এবং নতুন যুগোপযোগী কোর্স চালুর পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ঢাকার ধানমন্ডি ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক কলেজে প্রয়োজনীয় শিক্ষক, অবকাঠামো ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স চালু রয়েছে। এসব কোর্সের মান নিয়ে পর্যালোচনা চলছে এবং যেখানে মান বজায় রাখা সম্ভব নয়, সেখানে কোর্স বন্ধ করে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে নতুন করে এসব কোর্স অনুমোদনের প্রক্রিয়াও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
উপাচার্য জানান, দীর্ঘদিনের সেশনজট নিরসনে একটি বিশেষ রোডম্যাপ গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজটমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। প্রথম বর্ষের পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষেও ১০০ নম্বরের কমিউনিকেটিভ ইংলিশ কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আইসিটি শিক্ষায় দক্ষতা বাড়াতে দ্বিতীয় বর্ষেও ১০০ নম্বরের আইসিটি কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইউনিসেফ-এর সহায়তায় সারা দেশে প্রায় ১২ হাজার আইসিটি শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষক সংকট দূর করতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে আইসিটি শিক্ষায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা সায়েন্স, বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস, মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং, সাইবার সিকিউরিটি, রোবোটিকস এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন আধুনিক বিষয়ে নতুন কোর্স চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান উপাচার্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির ফলে শিক্ষার্থীরা দেশে বসেই হাইব্রিড পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি শিক্ষায় মেন্টরিং সহায়তা দেবে বলে জানান তিনি।
বেকারত্ব কমাতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা চালুর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও চাকরির বাজারের চাহিদার মধ্যে যে ফাঁক রয়েছে, তা কমাতে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় কোর্স নির্ধারণ করা হবে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে অনেক কলেজে উপস্থিতির হার বেড়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বড় পরিসরে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১২ হাজার প্রিন্সিপাল ও ভাইস-প্রিন্সিপাল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান।শিক্ষার মান উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একাধিক বড় উদ্যোগ হাতে নিয়েছে, যার প্রভাব পড়বে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায়।