Date: April 25, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / সিলেট / ৬ গ্রাম নিয়ে নতুন ইউনিয়ন, আখাউড়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জোর দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের...

৬ গ্রাম নিয়ে নতুন ইউনিয়ন, আখাউড়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জোর দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়

April 23, 2026 11:41:58 AM   অনলাইন ডেস্ক
৬ গ্রাম নিয়ে নতুন ইউনিয়ন, আখাউড়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জোর দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন ভেঙে ছয়টি গ্রাম নিয়ে নতুন ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে। এ বিষয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে স্থানীয় বাসিন্দারা জোরালোভাবে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দাবি জানান। শুনানি শেষে জেলা প্রশাসক বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।


বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে বরিশল ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ছয় গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। প্রস্তাবিত নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘বরিশল ইউনিয়ন’, যা আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে একীভূত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আখাউড়া উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন থাকলেও নতুনটি যুক্ত হলে সংখ্যা দাঁড়াবে ছয়টিতে।

নতুন ইউনিয়নের জন্য প্রস্তাবিত ছয়টি গ্রাম হলো—বরিশল, বৈষ্টবপুর, কোড্ডা, কোড়াবাড়ি, শ্যামনগর ও চান্দি। এসব গ্রাম বর্তমানে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে মোট ১৬টি গ্রাম রয়েছে। তবে ভৌগলিক অবস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই ছয়টি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অনেকাংশেই আখাউড়াকেন্দ্রিক।

গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ সরাসরি উপস্থিত থেকে স্থানীয়দের মতামত শোনেন। এলাকাবাসী জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই তাদের নির্ভরতা আখাউড়ার ওপর। অনেকের বক্তব্যে উঠে আসে, আখাউড়ায় যেতে যেখানে সময় লাগে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট, সেখানে জেলা সদরে যেতে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। যাতায়াত খরচের ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় পার্থক্য।

স্থানীয় বাসিন্দা সালাউদ্দিন বলেন, তাদের দৈনন্দিন জীবন আখাউড়াকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়। একইভাবে চান্দি গ্রামের লিয়াকত আলি ভূঁইয়া জানান, চিকিৎসা ও ব্যবসার প্রয়োজনে তাদের নিয়মিত আখাউড়ায় যেতে হয়, যা সময় ও খরচ—দুই দিক থেকেই সহজ। বরিশল গ্রামের শিক্ষার্থী মাইশা আক্তারও শিক্ষার সুবিধার কথা তুলে ধরে আখাউড়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দাবি জানান।

গণশুনানিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব গ্রামের মানুষ যোগাযোগ সমস্যার কারণে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। নতুন ইউনিয়ন গঠন হলে এবং আখাউড়ার সঙ্গে যুক্ত হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।

এ বিষয়ে লন্ডনে অবস্থানরত জেলা বিএনপির নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া মোবাইল ফোনে জানান, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে এই ছয়টি গ্রামের মানুষের সঙ্গে আখাউড়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে সদর উপজেলার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তারা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলেন। তাই নতুন ইউনিয়ন গঠন ও আখাউড়ার সঙ্গে একীভূত করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

এরই মধ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক মতামত দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিজয়নগরের সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন বা কসবার গোপীনাথপুরকেও আখাউড়ার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।

শুনানি শেষে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, যারা যুক্ত হতে চান এবং যারা চান না—দুই পক্ষের মতামতই শোনা হয়েছে। এলাকাবাসীর যুক্তিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটিই পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

ছয়টি গ্রাম নিয়ে নতুন ইউনিয়ন গঠন এবং আখাউড়ার সঙ্গে একীভূত হওয়ার এই উদ্যোগ এখন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি কতটা বাস্তবায়ন পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।