


প্রায় তিন দশক আগে ঘটে যাওয়া এক অপ্রীতিকর ঘটনার কথা স্মরণ করে গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, পরিচালক ও প্রযোজক রিমা খান। এক সময়ের আবেগঘন সিদ্ধান্ত আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়—সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে সেই অভিজ্ঞতার কথা অকপটে তুলে ধরেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই ‘বুলন্দি’ সিনেমার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন রিমা খান। পরবর্তীতে ‘নিকাহ’, ‘হাতি মেরে সাথী’ এবং ‘কোই তুঝ সা কাহান’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমা দিয়ে তিনি নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসক স্বামী তারিক শাহাবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিমা ফিরে যান নব্বইয়ের দশকের একটি ঘটনার দিকে। তিনি জানান, মিস ইস্তাম্বুল সিনেমার শুটিং চলাকালে, শামীম আরা পরিচালিত সেই ছবির সেটে এক সহঅভিনেত্রীর সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ঘটনাটি ঘটে ইসলামাবাদে।
রিমার ভাষ্যে, তিনি সাধারণত ঝগড়ায় জড়ানোর মানুষ ছিলেন না। কিন্তু সেই সময় বয়স কম থাকায় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন ছিল। তার দাবি, সহঅভিনেত্রী দুইবার তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং সবার সামনে ওই অভিনেত্রীকে চড় মারেন।
যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, সেই সহঅভিনেত্রী ছিলেন মীরা। নব্বইয়ের দশকে রিমা ও মীরার পেশাদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং দ্বন্দ্ব বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত ছিল।
তবে সময়ের পরিক্রমায় নিজের সেই আচরণকে ভুল হিসেবেই দেখছেন রিমা খান। তার কথায়, “আজও আমি সেই ঘটনার জন্য অনুতপ্ত। আমার উচিত ছিল নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা। আমি এখন তার জন্য দোয়া করি এবং ভাবি—যদি বিষয়টি অন্যভাবে সামাল দিতে পারতাম!” তিনি আরও বলেন, অনেক সময় পরিস্থিতি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রিমা ‘নম্বর ওয়ান বনাম নম্বর টু’—এই ধরনের প্রতিযোগিতাকে মিডিয়ার তৈরি বলে মনে করেন। তার মতে, বাস্তবে শিল্পীদের মধ্যে এতটা দ্বন্দ্ব থাকে না, যতটা সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হয়।