Date: April 19, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / খেলাধুলা / ১০৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী গাবতলী মাঠ দখলমুক্তের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

১০৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী গাবতলী মাঠ দখলমুক্তের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

April 19, 2026 11:59:43 AM   ক্রীড়া ডেস্ক
১০৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী গাবতলী মাঠ দখলমুক্তের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

রাজধানীর ঐতিহাসিক গাবতলী খেলার মাঠ আবারও প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল ও স্থাপনা সরিয়ে মাঠটি পুনরায় খেলাধুলার উপযোগী করার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত ও কার্যকর একটি খেলার মাঠ ফিরিয়ে দিতে সরকার এবার দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) মিরপুর মাজার রোড সংলগ্ন ১০৭ বছরের পুরোনো এই মাঠ পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত অনেক স্মৃতি রয়েছে এই মাঠকে ঘিরে। তিনি জানান, সাবেক তারকা ফুটবলার কাজী সালাউদ্দীন থেকে শুরু করে তিনিও নিজে এখানে খেলেছেন। তাই মাঠটির ঐতিহ্য ও গুরুত্ব বিবেচনায় এটিকে দখলমুক্ত করা জরুরি।

সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শুধু গাবতলী নয়, সারা দেশের যেসব খেলার মাঠ দখলদারদের কবলে পড়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে উদ্ধার করা হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদ ও ঢাকা মহানগরের মাঠগুলোকে শিশু-কিশোরদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মাঠটি দখলমুক্ত করতে আইনি জটিলতার কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখানে আদালতের একটি রায় রয়েছে এবং সেই রায়ের প্রতি সম্মান রেখেই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মাঠের বৃহৎ অংশ উদ্ধার করা হবে। কোনোভাবেই অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না—এমন কঠোর অবস্থানও ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, মাঠের অর্ধেকেরও বেশি অংশ অবৈধভাবে দখল করে দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এসব দখল না ছাড়লে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি আগে মরহুম মুন্সি লাল মিয়া এই ১.৭ একর জমির মাঠটি মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের নামে ওয়াক্ফ করে যান। এটি ঢাকা-১৪ আসনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র খেলার মাঠ হওয়ায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবৈধ দখল ও নির্মাণের কারণে মাঠটি সংকুচিত হয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাঠের তত্ত্বাবধায়ক বাবলা নামের এক ব্যক্তি করোনাকালীন সময়ে রাতের আঁধারে মাঠের বড় অংশ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে এসব জায়গা ইজারা দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়, যার ফলে এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে আশপাশের ১০টিরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মাঠের অভাবে নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারছে না। এতে শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

তবে সরকারের এই উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে গাবতলী মাঠকে তার পুরোনো রূপে ফিরিয়ে দেওয়া হবে—যেখানে আবারও শিশুদের হাসি, ক্রীড়ার উচ্ছ্বাস এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রাণ ফিরে পাবে পুরো এলাকা।