


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা এবং শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত বুধবার তাদের দোষ স্বীকারের জবানবন্দি নথিভুক্ত করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ তিন আসামির স্বীকারোক্তি গ্রহণের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মারিয়া আক্তার লিমা ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে এবং সাহেদা পারভীন সামিয়া ও ওয়াহিদ আহমেদ সিপু ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে পৃথকভাবে জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তি প্রদানের পর আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তিন আসামিই তাদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। তারা কীভাবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়—এসব বিষয়ও জবানবন্দিতে উঠে এসেছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর আদালত তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর আবারও চার দিনের দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে নেওয়া হয় তিন আসামিকে।
এদিকে মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা-মাও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার আলামত হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা ফায়ার কার্তুজ ও বুলেটের ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদ সিআইডির ব্যালিস্টিক শাখার বিশেষ পুলিশ সুপারকে দ্রুত পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের মতে, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে ব্যালিস্টিক রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর পল্টন থানাধীন বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোড সংলগ্ন এলাকায় শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে তার মরদেহ দেশে এনে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সব আলামতের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।