


শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে একটি বাঘ ট্রিপোনোসোমিয়াসিস, লিভার ডিজিজ ও যক্ষাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে একমাস যাবৎ না খেয়ে বাঘটি ক্রমসই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। প্রায় একমাস যাবৎ খাদ্য গ্রহণ না করা এবং দেড়মাসের অসুস্থতায় ক্লান্ত বাঘটি সাফারী পার্কের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে সেটির চিকিৎসা চলাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পার্ক কর্তৃপক্ষ।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বনসংরক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বুধবার (১৪ মার্চ) বলেন, অসুস্থ বাঘটির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগে পরীক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাঘটির স্বাস্থ্যের অবস্থা ক্রমসই সংকটাপন্ন হচ্ছে এবং বাঘটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। বাঘটি কোনো অবস্হাতেই দাঁড়াতে পাচ্ছে না।প্রায় দেড় মাসের অসুস্থতা এবং ১ মাসের না খাওয়ায় বাঘটির শরীরের ঘটন মাংস শূন্যহয়ে শুকিয়ে কঙ্কালের মতো হয়ে যাচ্ছে। কোন অবস্থাতেই বাঘটি বাঁচানো সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
চিকিৎসকদের বারত দিয়ে তিনি আরো জানান, বাঘটি যে ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়েছে তা ক্যান্সারের সমতুল্য। কোনো প্রকাশ চিকিৎসায় বাঘটিকে সুস্থ করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি জানান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. আনিসুর রহমান জানান, অসুস্থ মাদী বাঘটি বর্তমানে কোন ধরনের খাবার গ্রহণ করছে না। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন বাঘটি ট্রিপোনোসোমিয়াসিস, লিভার ডিজিজ ও যক্ষাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। এধরণের রোগাক্রান্ত প্রাণীদের বাঁচানোর কোনো প্রকার সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি জানান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানান, পার্ক প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা বাঘ গুলোর মধ্যে একটি মাদী বাঘ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে বাঘটি খাদ্য গ্রহণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাঘটি খাবার গ্রহণ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে এর চিকিৎসা শুরু করা হয়। মাঝে মধ্যে পানি খেলেও মাংস খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় বাঘটি। বর্তমানে অসুস্থ বাঘটি ঢাকার কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের সাবেক প্রধান ভেটেরিনারি অফিসার এবিএম শহীদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানান, গত বছর জানুয়ারীতে পার্কে একটি বাঘ মারা যায়। বর্তমানে সাফারি পার্কে বাঘের সংখ্যা ৯টি, তার মধ্যে ছয়টি মাদী ও তিনটি পুরুষ রয়েছে।