


কক্সবাজার সদরে মাথা ও কবজিবিহীন গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে মরদেহ বিকৃত করার অভিযোগে পলাতক স্বামীকে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে। গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম তারেক (২৬) মহেশখালী পৌরসভার দাসী মাঝিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নিহত শাহিদা আক্তার রিপা ওরফে মুন্নী (২৯) একই উপজেলার চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ১১ এপ্রিল বিকেলে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের জানারঘোনা এলাকায় দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে স্থানীয়রা একটি ডোবায় বেডশিটে মোড়ানো অবস্থায় এক নারীর মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, হত্যাকাণ্ডটি ঘটনার ৪ থেকে ৫ দিন আগে সংঘটিত হয়েছে। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হলে ১৩ এপ্রিল নিহতের মা বাদী হয়ে স্বামীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন অভিযুক্ত স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেক। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে কক্সবাজারে আনা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রায় ৬-৭ মাস আগে স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া তৃতীয় বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এর জেরে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রীকে রসমালাইয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে মরদেহের মাথা ও কবজি বিচ্ছিন্ন করে বাঁকখালী নদী-এর নতুন ব্রিজের নিচে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও রসমালাইয়ের অবশিষ্টাংশ অভিযুক্তের ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, বুধবার দিনব্যাপী অভিযুক্তকে নিয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও এখনো নিহতের মাথা ও কবজি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।