Date: April 30, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / যুদ্ধ আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে রেকর্ড বৃদ্ধি - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

যুদ্ধ আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে রেকর্ড বৃদ্ধি

April 30, 2026 06:03:18 PM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুদ্ধ আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে রেকর্ড বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্যারেলপ্রতি দাম ১২০ ডলারের ওপরে উঠে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১২২ ডলারের বেশি ছুঁয়েছে। এর আগে দিনের লেনদেনে দাম আরও ওঠানামা করে সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি শুরু হয় বুধবার রাতে অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদনের পর, যেখানে বলা হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে একটি ব্রিফিং করবেন। উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরানো। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একদিনে ৩.৭৩ ডলার বা ৩.২ শতাংশ বেড়ে ১২১.৭৬ ডলারে পৌঁছায়। দিনের মধ্যে এটি ১২৬.৪১ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়। একই সঙ্গে জুলাইয়ের সক্রিয় চুক্তির দাম দাঁড়ায় ১১১.৮৯ ডলারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং সামরিক সংঘাতের পর থেকে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে।

হরমুজ প্রণালির কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, ফলে এই রুটে বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং এটি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপও তৈরি হতে পারে।

পিভিএম অয়েল ব্রোকারেজের বিশ্লেষক জন ইভানস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ার জন্য খুব বেশি প্রণোদনার প্রয়োজন নেই। তার মতে, বাজারে অনিশ্চয়তা এত বেশি যে দাম আরও বড় অঙ্কে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে ১০৮.৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দিনের মধ্যে ১১০ ডলারের ওপরে উঠেছিল।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ইরান পারমাণবিক আলোচনা ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দাবি জানালেও যুক্তরাষ্ট্র চাপ অব্যাহত রেখেছে।

আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সিকামোর মনে করেন, স্বল্পমেয়াদে এই সংকটের সমাধান বা রুট পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

অন্যদিকে ওপেক প্লাস জোটের মধ্যেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৬০ বছর পর সংগঠন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ ঘাটতি পূরণে চাহিদা কমে আসা ছাড়া বড় কোনো সহজ সমাধান নেই। তবে উচ্চ দামের কারণে বিশ্বব্যাপী দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত চাহিদা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বর্তমান সংকট সম্পূর্ণভাবে সমাধান করতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে গভীর অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।