


কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙন স্থানীয় জনজীবনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। হাতিয়া ও বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় শত শত পরিবার বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় রয়েছে। স্কুল রক্ষার দাবিতে শিশুদের কান্নাভেজা অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যা পুরো এলাকায় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে জলঙ্গার কুটি ও বাবুর চর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে নদীভাঙন রোধের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেন। এতে শত শত নারী-পুরুষের পাশাপাশি শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়, যাদের অনেকেই নিজের স্কুল ও ভবিষ্যৎ হারানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিল।
নদীর তীরে দাঁড়িয়ে স্থানীয়রা তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। বৃদ্ধা আছিয়া বেগম বলেন, তাদের একমাত্র বসতভিটাই এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেন আকলিমা, কবিজন নেছা এবং শাহাবুরসহ আরও অনেক স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছরই ভাঙন দেখা দিলেও স্থায়ী কোনো সমাধান নেই।
শিশুদের অংশগ্রহণে মানববন্ধনটি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমা আক্তার বলে, তাদের স্কুল যদি নদীতে হারিয়ে যায়, তবে তারা কোথায় পড়াশোনা করবে—এই প্রশ্নই তাদের সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে। তার সহপাঠী রাব্বি জানায়, তারা শুধু তাদের স্কুলটিকে বাঁচাতে চায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদও এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, সাংবাদিক ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার চারটি প্রধান নদীতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করা হবে।
তবে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ এখনো কাটেনি। তাদের প্রশ্ন—এই উদ্যোগ বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হবে? কারণ প্রতিদিনই নদী আরও কাছে এসে গ্রাস করছে বসতভিটা, স্কুল ও জীবনের নিরাপত্তা।