Date: April 25, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / মব সৃষ্টি করে বাধ্যতামূলক বিয়ে, ইউপি সদস্য ও কাজির বিরুদ্ধে মামলা - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

মব সৃষ্টি করে বাধ্যতামূলক বিয়ে, ইউপি সদস্য ও কাজির বিরুদ্ধে মামলা

November 13, 2025 09:04:32 PM   অনলাইন ডেস্ক
মব সৃষ্টি করে বাধ্যতামূলক বিয়ে, ইউপি সদস্য ও কাজির বিরুদ্ধে মামলা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিতর্কিত ঘটনার মামলা আদালতে গ্রহণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মাইনউদ্দিন নামে এক যুবক তার পরিপার্শ্বিক পারিবারিকভাবে বিবাহের চুক্তিতে কাবিন রেজিস্ট্রি করেছিলেন। কিন্তু কাবিনের কয়েক মাস পর স্ত্রীকে ঘরে তোলার বিষয়ে আলোচনা করতে তার হবু স্ত্রীর পরিবারের বাসায় গেলে পরিস্থিতি উল্টোভাবে দেখা দেয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় হাবিবুর রহমান, আবদুল মান্নান, ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম ও বাবুল দেওয়ানের নেতৃত্বে একদল যুবক সেখানে মব তৈরি করে মাইনউদ্দিনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এরপর তারা অনৈতিক সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগের আড়ালে গভীর রাতে কাজি ডেকে মাইনউদ্দিনকে পুনরায় কাবিন এবং বিয়েতে বাধ্য করেন। পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে বলা হয় মাইনউদ্দ্বিন অনৈতিক কাজে ধরা পড়ে বিবাহ করেছেন। এই ঘটনায় দুই পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

মাইনউদ্দিন ওই ঘটনায় রোববার (৯ নভেম্বর) আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিবি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন টিটু বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মাইনউদ্দিন উপজেলার হাজিরহাট বাজারে ইবনে সিনা পপুলার ডেন্টাল ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান ও আবদুল মান্নান ওই ক্লিনিকে প্রবেশ করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। ভুক্তভোগীর চিৎকারে তারা পালিয়ে যায়, যা মাইনউদ্দিনকে ক্ষিপ্ত করেছিল। দুই মাস পর মাইনউদ্দিন তার কাবিন রেজিস্ট্রি করা হবু স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে বিয়ের দিন ঠিক করতে গেলে অভিযুক্তরা গুজব ছড়িয়ে স্থানীয়দের জড়ো করে মব তৈরি করেন।

ভুক্তভোগীর মা নাজমা বেগম বলেন, তিনি মেয়ের সঙ্গে মাইনউদ্দিনের কাবিন রেজিস্ট্রি হওয়ার পর বিয়ের দিন ঠিক করার জন্য খবর দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযুক্তরা স্থানীয় ইউপি সদস্যদের নেতৃত্বে শতাধিক মানুষকে জড়ো করে মাইনউদ্দিনকে মারধর করে। পরে কাজি ডেকে পুনরায় কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়।

কাজি মো. শফি উল্লাহ জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সিরাজ তাকে ফোন করে ঘটনাস্থলে আনে। সেখানে এক থেকে দেড়শ মানুষ উপস্থিত ছিলেন, এরপর সবার সম্মতিতে কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বাবুল দেওয়ান ও সাবেক মেম্বার সিরাজুল ইসলাম ফোনে পাওয়া যায়নি।

ডিবি ওসি শাহাদাত হোসেন টিটু বলেন, মামলাটি হাতে এসেছে এবং তা তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।

এ ঘটনা সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।