


ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিতে সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বর্তমান পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইরানে সাম্প্রতিক হামলার প্রভাব আশপাশের দেশগুলোতে কীভাবে পড়ছে এবং সেখানে কর্মরত বা বসবাসরত বাংলাদেশিরা কী অবস্থায় আছেন— সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ইরানকেন্দ্রিক উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আগত অনেক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ আটকে পড়া যাত্রীদের সার্বিক দেখভাল ও সহায়তা কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকিতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। বিমান প্রতিমন্ত্রী সকাল থেকেই বিমানবন্দরে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় সক্রিয় রয়েছে।
রোববার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। পরবর্তীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সঙ্গে বৈঠকে সাম্প্রতিক ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা জোরদারে এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সার্বিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, প্রবাসীদের নিরাপত্তা, বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্যোগ প্রস্তুতি— সবকিছুতেই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।