


নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক মাদরাসাছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় গোপন থাকা ঘটনার পর শিশুটি বর্তমানে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, যা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের একটি কওমি মাদরাসাকে কেন্দ্র করে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভয়ের কারণে দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকে। এ সময় শিশুটি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগতে থাকে এবং কয়েক মাস মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে তার মা বাড়িতে এসে বিষয়টি জানতে চাইলে শিশুটি ঘটনাটি জানায়।
এরপর বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বয়স কম হওয়ায় তার শরীরে অপুষ্টি ও রক্তস্বল্পতা রয়েছে। গর্ভকালীন জটিলতার কারণে স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব নাও হতে পারে বলে চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে শিশুটি ও তার পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর আত্মগোপনে রয়েছেন। মাদরাসা সূত্র জানিয়েছে, তিনি কয়েকদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।