Date: April 19, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / মুছাপুর ক্লোজার ভেঙে বিপর্যয়: পুনঃনির্মাণে দাবি স্থানীয়দের - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

মুছাপুর ক্লোজার ভেঙে বিপর্যয়: পুনঃনির্মাণে দাবি স্থানীয়দের

May 22, 2025 01:52:36 PM   জেলা প্রতিনিধি
মুছাপুর ক্লোজার ভেঙে বিপর্যয়: পুনঃনির্মাণে দাবি স্থানীয়দের

আনোয়ার হোসেন:
ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মুছাপুর ক্লোজার প্রকৃতি ও মানবসেবার এক অনন্য নিদর্শন হলেও বর্তমানে তা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী অবদান রাখা এ প্রকল্পটি শুধু একটি নদী নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নয়, বরং এটি কৃষি, জনজীবন ও পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত একটি উন্নয়নমুখী স্থাপনা।

জানা যায়, ২০০৫ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুছাপুর ক্লোজারটি ফেনী নদীর মোহনায় অবস্থিত। ২৩ বোল্টবিশিষ্ট এই রেগুলেটরের মূল উদ্দেশ্য ছিল নদীর বন্যা ও জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ, কৃষিজমি রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন। এই ক্লোজারের মাধ্যমে সোনাগাজীর বিস্তীর্ণ জনপদকে লবণাক্ত পানি ও নদীভাঙন থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল। পাশাপাশি, এটি কৃষিকাজে ব্যবহৃত মিঠা পানির সরবরাহ নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক অবদান রাখে।

এছাড়া, ক্লোজার ঘিরে গড়ে উঠেছিল নতুন জনবসতি, মৎস্য খামার ও পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে ভ্রমণে আসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জলরোধক এই প্রকৌশল কীর্তিটি দেখতে। প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থানের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে মুছাপুর ক্লোজার।

কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে ক্লোজারটি ধসে পড়ে। এর ফলে নদীর দুই পাড়ে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয় এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের ফলেই রেগুলেটরটি মাত্র ৯ বছরের ব্যবধানে ভেঙে পড়ে। একইসঙ্গে, দীর্ঘদিনের অবহেলা, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

মুছাপুর ক্লোজারের পুনঃনির্মাণের দাবিতে সোনাগাজী ও আশপাশের এলাকাগুলোর বাসিন্দারা একাধিকবার মানববন্ধন করেছেন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ফেনীর জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, মুছাপুর ক্লোজার পুনঃনির্মাণের কাজ ২০২৫ সালের আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প শুরু করতে আরও দেরি হলে নদীভাঙনের ভয়াবহতা আরও বাড়বে, এবং প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে।

মুছাপুর ক্লোজার ও মুহুরী প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর টেকসই রক্ষণাবেক্ষণ এখন সময়ের দাবি। এক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা, বাঁধ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা স্থাপন এবং অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

সোনাগাজী ও আশপাশের জনগণের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে -এই প্রত্যাশায় দিন গুনছে এলাকাবাসী।