


ভারতের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানিকে দেশের নতুন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামরিক বিষয়ক বিভাগের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্য দিয়ে ভারতের সামরিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হলেন তিনি।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমান চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহানের মেয়াদ আগামী ৩০ মে শেষ হচ্ছে। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানি। তিনি জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং জেনারেল অনিল চৌহানের পর এই পদে দায়িত্ব পাওয়া তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে ইতিহাসে যুক্ত হলেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজা সুব্রামানি বর্তমানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ের সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা তিনি ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করেন। এর আগে দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

তার সামরিক অভিজ্ঞতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
তিনি ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
এদিকে ভারতের নৌবাহিনীতেও শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন এসেছে। ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনকে পরবর্তী নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি মুম্বাইয়ে পশ্চিম নৌ কমান্ডের দায়িত্বে রয়েছেন। আগামী ৩১ মে তিনি বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কুমার ত্রিপাঠীর কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তার দায়িত্বকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কৃষ্ণ স্বামীনাথন খাদকওয়াসলার ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমির প্রাক্তন ছাত্র। তিনি ১৯৮৭ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিদ্যায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি যুক্তরাজ্যের শ্রীভেনহ্যামের জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, ভারতের করঞ্জার কলেজ অব নেভাল ওয়ারফেয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউপোর্টের ইউএস নেভাল ওয়ার কলেজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
ভারতের সামরিক নেতৃত্বে এই পরিবর্তনকে দেশটির প্রতিরক্ষা কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।