


রংপুরের কাউনিয়ায় ৫ নম্বর বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এস এম আমিরুল ইসলাম পলাশ সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। বুধবার দুপুরে কাউনিয়ার জিন্না চম্পা ফাউন্ডেশন হলরুমে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন।
আমিরুল ইসলাম পলাশ বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করেন। আপনাদের মাধ্যমেই আমি আমার পরিকল্পনার কথা বালাপাড়াবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চাই। তিনি জানান, ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মাঠে জোরালো প্রচারণা শুরু করেছেন। বালাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে টানা তিনবার মেম্বার হিসেবে ১৫ বছর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার মূল লক্ষ্য হলো বালাপাড়া ইউনিয়নকে একটি আধুনিক মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করা। সেই স্বপ্ন পূরণেই তিনি এবার চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন।
তার ইশতেহারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা এবং নাগরিক সেবা সনদ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা। এছাড়া তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান বাড়ানো, গ্রামীণ অবকাঠামোর সুষম উন্নয়ন এবং ওয়ার্ডভিত্তিক ক্লাব গঠনের মাধ্যমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির প্রসারের প্রতিশ্রুতি দেন। জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও তার রয়েছে। সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার ধরণ সহজ করতে তিনি গ্রাম আদালতের ফি তুলে দিয়ে বিনামূল্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। মাদক, বাল্যবিবাহ এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনাও তার ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম আরও সহজ ও দ্রুত করা হবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, সময় এখন পরিবর্তনের। পরিবর্তনের পক্ষে ইউনিয়নবাসী তাদের রায় দেবেন বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। জনসেবা এবং উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
মতবিনিময় সভায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আবেদ আলী, সাবেক ইউপি সদস্য আরমান আলী, ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ, সহকারী শিক্ষক মকবুল হোসেন, শিরিন আক্তার এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আমিনুল ইসলাম সাগর। এ ছাড়া স্থানীয় সাংবাদিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও পলাশের পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।