Date: April 19, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সোশ্যাল মিডিয়া / বাংলা ১২ মাসই বলতে পারলেন না ডাকসু নেতা, পহেলা বৈশাখে মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্র...

বাংলা ১২ মাসই বলতে পারলেন না ডাকসু নেতা, পহেলা বৈশাখে মন্তব্য ঘিরে তোলপাড়

April 15, 2026 10:49:24 AM   অনলাইন ডেস্ক
বাংলা ১২ মাসই বলতে পারলেন না ডাকসু নেতা, পহেলা বৈশাখে মন্তব্য ঘিরে তোলপাড়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এক শীর্ষ নেতার মুখে বাংলা ১২ মাসের নাম ভুলভাবে উচ্চারণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পহেলা বৈশাখের মতো একটি সাংস্কৃতিক উৎসবের দিনে এমন ঘটনার কারণে তার দায়িত্ব ও জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় বাংলা ১২ মাসের নাম বলতে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে বাংলা বছরের মাসগুলোর নাম ধারাবাহিকভাবে বলতে বলা হলে তিনি সঠিকভাবে তা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।

ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি মাসগুলোর নাম বলতে গিয়ে বলেন— ‘আষাঢ়, জ্যৈষ্ঠ, শ্রাবণ, আশ্বিন, কার্তিক, পৌষ, মাঘ, অগ্রহায়ণ, ভাদ্র… হয়ে গেছে? হয়েছে? ফাল্গুন, ১২টা হয়েছে?’— যা স্পষ্টতই অসংলগ্ন ও অসম্পূর্ণ। তার এই বক্তব্য মুহূর্তেই উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে এবং পরে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।

বিশেষ করে একজন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন মৌলিক বিষয়ে ভুল প্রত্যাশিত নয়— এমন মন্তব্য করেছেন অনেক নেটিজেন। অনেকেই মনে করছেন, যিনি সংস্কৃতি ও সাহিত্যের প্রতিনিধিত্ব করেন, তার কাছ থেকে বাংলা ক্যালেন্ডারের প্রাথমিক জ্ঞান থাকা উচিত।

তবে একই আলোচনায় মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ তোষামোদ বা ‘তৈল’ সংস্কৃতি নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী-এর বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘তৈল’-এর উল্লেখ করে বলেন, সমাজে চাটুকারিতার প্রবণতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অতীতের লেখকরাও কল্পনা করতে পারেননি।

পহেলা বৈশাখের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই উৎসব কখনো কৃষকের দুঃখ-কষ্টের প্রতীক, আবার কখনো তাদের আনন্দের প্রকাশ। কিন্তু বাঙালির অন্যতম প্রধান এই উৎসবের দিনে বাংলা মাসগুলোর নাম সঠিকভাবে বলতে না পারায় তার সাংস্কৃতিক জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে ব্যক্তিগত ভুল হিসেবে দেখলেও, অনেকেই এটিকে দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন ব্যক্তির অপ্রস্তুত অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।