


যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গাজায় চলমান মানবিক সংকট নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির পক্ষে কথা বলেছেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওবামার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “গাজায় যে মানবিক সংকট চলছে, তা উপেক্ষা করা অগ্রহণযোগ্য। উভয় পক্ষকে এমন একটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে, যেখানে একটি নিরাপদ ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও স্বায়ত্তশাসন বিদ্যমান থাকবে।”
ওবামা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের অনাহারে রাখা যায় না। তিনি আরও বলেন, “এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকাকে আরও গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো সামরিক যুক্তি নেই।” সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য এসেছে এমন সময়ে যখন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন গাজা ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে এক অনুষ্ঠানে ওবামা বলেন, ইসরায়েলের নীতির সঙ্গে সব বিষয়ে একমত না হওয়ায় দেশের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হতে পারেননি। তিনি উল্লেখ করেছেন, “অনেক সময় নেতৃত্ব এবং রাজনীতিবিদরা ‘আমরা বনাম তারা’ ধরনের স্বার্থপর সম্পর্ক বজায় রাখেন। এর ফলে ক্ষমতায় থাকা সহজ হয়। আমি ওই অঞ্চলে জনপ্রিয় ছিলাম না কারণ আমি সমালোচনা করতাম।”
এর আগে তিনি গাজায় ‘প্রতিরোধযোগ্য’ দুর্ভিক্ষ রোধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি জোর দিয়েছেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য সকল বন্দি মুক্ত করা ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ করা জরুরি, কিন্তু তাত্ক্ষণিকভাবে নিরীহ মানুষের মৃত্যু রোধে সাহায্য পৌঁছানোই প্রথম প্রয়োজন। তিনি বলেন, “বেসামরিক মানুষদের কাছ থেকে খাবার ও পানি দূরে রাখার কোনো যুক্তি নেই।”
ওবামার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ এটি গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা তৎক্ষণাৎ পৌঁছে দেওয়ার দাবি এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র স্বীকৃতির সমর্থন দুইটি দিককে একসাথে তুলে ধরেছে।