


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), আর দীর্ঘদিনের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে এবার বড় ধাক্কা খেতে হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ভারতের নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৩ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়েও বেশি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৫৯টি আসন।
ফলাফলে দেখা যায়, ভোটারদের বড় অংশ এবার বিজেপির পক্ষে রায় দিয়েছে। এর ফলে রাজ্যে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছিল, তারা আগের মতোই বড় ব্যবধানে জয়ী হবে। তবে ভোট গণনার চিত্র সেই প্রত্যাশার বিপরীত হয়।
এবারের নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের আসন ভবানীপুরেও পরাজিত হন। চূড়ান্ত গণনায় তিনি পান ৫৫ হাজার ৭৮২ ভোট, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী পান ৬৬ হাজার ৭৮৫ ভোট, অর্থাৎ তিনি ১১ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে থাকেন।
অন্যদিকে নন্দীগ্রাম আসনেও বিজেপির প্রভাব স্পষ্ট হয়। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী দেয় পবিত্র করকে, তবে ভোট ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ব্যবধানে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন। সেই ফল নিয়েও তখন আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যা এখনো আদালতে নিষ্পত্তি হয়নি।
এবারের ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।