


ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনীতে চালককে ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল হোতাসহ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটির খণ্ডিত বিভিন্ন অংশও উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক পৌনে নয়টার দিকে যাত্রীবেশে ৩-৪ জন ছিনতাইকারী শহরের এসএসকে রোডের হোটেল ডিলাক্সের সামনে থেকে চালক মো. শাহিদের (১৭) অটোরিকশাটি ভাড়া করে। পরে ফতেপুর ফ্লাইওভারের নিচে নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চালক ফেনী সদর থানায় মামলা দায়ের করলে মামলার তদন্তভার ডিবি পুলিশের ওপর ন্যস্ত হয়। ফেনীর পুলিশ সুপার জনাব হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইদ নুর হোটেল ডিলাক্সের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
ফুটেজের সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এমদাদুল ইসলাম পাভেল (২১), মনোহর আলী মনা (২১) ও মো. রাশেদকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ছিনতাই করা অটোরিকশাটি যারা কিনে ও খণ্ড-বিখণ্ড করে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- মো. ইয়াছিন মানিক ওরফে বোমা মানিক (৪০), মো. নুরুল আমিন ওরফে শুকুর আলী (২৮) এবং এনামুল হক (৫০)।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যমতে, বাথানিয়া এলাকার একটি মসজিদের পুকুর থেকে অটোরিকশাটির খণ্ডিত তিনটি অংশ (বডি) এবং বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা তিনটি চাকা ও চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, ছিনতাইকারীরা অটোরিকশাটি ছিনিয়ে "বোমা মানিক"-এর কাছে হস্তান্তর করে। এরপর মানিক ও শুকুর মিলে সেটিকে খণ্ড-বিখণ্ড করে যন্ত্রাংশগুলো বিক্রি করে এবং মূল বডি পুকুরে ফেলে দেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।