


ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তর করে সংরক্ষণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। ২০১৫ সালের মতো এবারও একই ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে তিনি সংকট নিরসনের একটি সম্ভাব্য পথের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও রাশিয়ার ত্রিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক।
শনিবার (৯ মে) মস্কোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, অতীতে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময় রাশিয়া ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম গ্রহণ করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও যদি প্রয়োজন হয়, রাশিয়া একই ধরনের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।
পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত ছিল। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে জানায়, এই ইউরেনিয়াম শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে সংরক্ষণ করা উচিত। এ অবস্থানের পরিবর্তনের পর ইরানও নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করে তোলে, যার ফলে আলোচনায় জটিলতা তৈরি হয়।
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও জানান, রাশিয়া নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় দেশের সঙ্গেই যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং তারা আশা করছে, চলমান উত্তেজনা শিগগিরই কূটনৈতিকভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।
তবে রাশিয়ার এই প্রস্তাব নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার দিকে এগোতে পারে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধতায় উন্নীত করা তুলনামূলক সহজ এবং সেই পর্যায়ের ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের কাছাকাছি পৌঁছেছে। আলোচ্য প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং জব্দ করা কয়েক বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা কিছু বিধিনিষেধও তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে রাশিয়ার নতুন প্রস্তাব আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মোড় সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।