


গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছিলেন, “আই হ্যাভ এ প্ল্যান।” এবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী নিজে সরাসরি ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের জনপ্রশাসন গত দেড় দশক ধরে দলীয়করণের শিকার হয়েছে। এতে প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে, দক্ষতা কমেছে, এবং দেশের বিভিন্ন স্তরে প্রায় ধ্বস নেমেছে। প্রশাসনও এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।
উপদেষ্টা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতি অনুযায়ী আমরা একটি দক্ষ, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক প্রশাসন দেশের জনগণকে উপহার দেব। প্রশাসন জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে, স্বার্থপর প্রশাসক হিসেবে নয়। আমরা একত্রে বাংলাদেশকে বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশে পরিণত করব।”
তিনি বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিএনপি বা ‘ধানের শীষ’-এর সঙ্গে আমাদের আত্মিক সম্পর্ক আছে, তবে মূল পরিচয় এবং মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ। নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল, নির্বাচনের পরে তা সম্পূর্ণভাবে বদলেছে। এখন সবার দায়িত্ব এসেছে জনগণের জন্য কাজ করা।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করাই এখন আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। জনগণ অকৃপণভাবে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করেছে, এবং এই বিজয়ের সঙ্গে জড়িত রয়েছে সাংঘাতিক দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা। সেই ভাবনায় আগামী দিনগুলোতে দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি উদার গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমরা একত্রে একটি সুন্দর, মানবিক দেশ তৈরি করব। শুধু বিএনপি নয়, সব রাজনৈতিক দল একত্রে কাজ করলে জাতিকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার বাসিন্দা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর এটি তার প্রথম লক্ষ্মীপুর সফর।
সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার শেষে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহবায়ক হাছিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান হাছানুজ্জামান চৌধুরী মিন্টু, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আহমেদ ফেরদৌস মানিক, পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, জেলা যুবদলের সভাপতি সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি মহসিন কবির স্বপন উপস্থিত থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।