


রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে এসে পহেলা বৈশাখে এক অনন্য সম্প্রীতির নজির গড়লেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা একসঙ্গে একই মঞ্চে বসে পান্তা-ইলিশ খেয়ে মিলনের বার্তা দিয়েছেন, যা স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মাধবপুর উপজেলার মঙ্গলপুর গ্রামে বৈশাখী আয়োজনকে কেন্দ্র করে এই ব্যতিক্রমী দৃশ্যের অবতারণা হয়। নববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের একটি বার্তা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আতাউস সামাদ বাবু, স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. আক্তার হোসেনসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। ভিন্ন মতাদর্শের হলেও তারা একসঙ্গে বসে পান্তা-ইলিশ খেয়ে নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এই আয়োজনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করেন স্থানীয় যুবক শাহ আলম হৃদয়, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। অনেকেই এটিকে সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক সহনশীলতার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়দের মতে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন থাকলেও সামাজিক জীবনে পারস্পরিক সম্পর্ক ও মানবিক বন্ধন অটুট রাখা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ সেই বার্তাকেই আরও জোরালো করে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহেল মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় কোনো দূরত্ব নেই। তিনি জানান, সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চান।
উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা ইকরাম বলেন, দেশের উন্নয়ন ও শান্তির স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শ্রীধাম দাশগুপ্ত বলেন, অতীতেও এমন সহাবস্থানের নজির ছিল এবং বর্তমানেও পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবে সব দলের অংশগ্রহণ একটি ইতিবাচক দিক। তিনি সবাইকে মিলেমিশে চলার আহ্বান জানান।
পহেলা বৈশাখের এই আয়োজন শুধু উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।