


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলামকে সম্প্রতি তার সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগ। তবে রেদোয়ান নিজে দাবি করেছেন, তিনি আসলে ছেলে থেকে মেয়ে হননি, বরং বিনোদনের উদ্দেশ্যে নারী সেজে টিকটক ভিডিও তৈরি করতেন।
রেদোয়ান ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘রিহিয়া রিহি’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন স্টাইলে নারী সাজে ছবি ও রিলস পোস্ট করতেন। ফলোয়ারের সংখ্যা ছিল ২৫ হাজারেরও বেশি। তার এই কর্মকাণ্ড এবং ছাত্রদলীয় রাজনৈতিক সংযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

রেদোয়ান তার পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি লেখেন, তার ভিডিও ও কন্টেন্ট মূলত মজার ছলে তৈরি করা হয়েছিল। তিনি স্বীকার করেছেন, কিছু মানুষ তার ভিডিও দেখে কষ্ট পেয়েছেন এবং এজন্য তিনি দুঃখিত। তিনি অনুরোধ করেছেন, মানুষ তাকে রাস্তায় বা অন্য কোথাও দেখলে খারাপ মন্তব্য না করে, নিজের ভাইয়ের মতো আচরণ করলে তিনি সহজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন।
অপর পোস্টে তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন। তাকে ঘিরে ছড়ানো গুজব সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি একজন পূর্ণবয়স্ক ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একজন সংস্কৃতিকর্মী। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে তার ভিডিও ও কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবেন।
রেদোয়ান ইসলাম বর্তমানে তার টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম আইডিও ডিঅ্যাক্টিভেট করেছেন। এই ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার মধ্য দিয়ে নেটিজেনরা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, কেউ সমর্থন করছেন, কেউ সমালোচনা করছেন। তবে রেদোয়ান নিজে এই বিতর্ক শেষ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।