


বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের পরিচিত মুখ, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী, ভক্ত ও অনুরাগীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
অভিনয়ের পাশাপাশি শামস সুমন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণমাধ্যমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি জনপ্রিয় বেসরকারি এফএম রেডিও স্টেশন রেডিও ভূমি–এর স্টেশন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় শেষ দিকে অভিনয়ে তাকে খুব একটা নিয়মিত দেখা যায়নি।
মঞ্চনাটকের মধ্য দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করা এই অভিনেতা এক সময় ছোট পর্দা ও বড় পর্দা—দুই মাধ্যমেই সমান দক্ষতায় অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন। তার অভিনয়ের স্বাভাবিকতা, সংলাপ বলার ভঙ্গি এবং চরিত্রের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।
অভিনয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে জয়যাত্রা, বিদ্রোহী পদ্মা, নমুনা, হ্যালো অমিত, আয়না কাহিনী, প্রিয়া তুমি সুখী হও, মন জানেনা মনের ঠিকানা, কক্সবাজারে কাকাতুয়া এবং চোখের দেখা। এসব চলচ্চিত্রে তার অভিনয় এখনও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।
শামস সুমন ছিলেন একজন নিভৃতচারী কিন্তু প্রতিভাবান শিল্পী, যিনি নিজের অভিনয়গুণে দীর্ঘদিন দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের বিনোদন অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।