


সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়, সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক ব্রত -এই উক্তিটিই প্রমাণ করেছেন নবীগঞ্জের দুই তরুণ সাংবাদিক। সম্প্রতি শহরে জারি করা ১৪৪ ধারার অচলাবস্থার মধ্যে তারা অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধদের ঘরে ঘরে জরুরি ঔষধ পৌঁছে দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের এই মহতী উদ্যোগের জন্য প্রশংসায় ভাসছেন দৈনিক দেশের পত্রের প্রতিনিধি জসীম উদ্দীন ও দৈনিক আমার হবিগঞ্জের প্রতিনিধি তাজুল ইসলাম।
গত ৮ জুলাই নবীগঞ্জ শহরে একটি সংঘর্ষের জেরে উপজেলা প্রশাসন তিন দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। এতে পুরো শহর কার্যত অচল হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অসুস্থ ও বৃদ্ধরা চরম বিপাকে পড়েন। জরুরি ঔষধ সংগ্রহ করাও তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এই সংকটময় মুহূর্তে সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বে এগিয়ে আসেন জসীম ও তাজুল। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দেন, "যাদের জরুরি ঔষধ প্রয়োজন, আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আমরা পৌঁছে দেবো।"
এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে অসংখ্য মানুষ তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। দুই সাংবাদিক তখন নিজেদের অর্থে পার্শ্ববর্তী আউশকান্দি বাজার থেকে ঔষধ কিনে রোগীদের বাসায় বাসায় পৌঁছে দেন। পেশাগত দায়িত্বের বাইরে তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি সমাজে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
এই প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, "এমন উদ্যোগ সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সাংবাদিকতার গণ্ডি পেরিয়ে সমাজসেবায় যে ভূমিকা তারা রেখেছেন, তা অনুকরণীয়।"
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. কামরুজ্জামান বলেন, "তাদের সাহসিকতা ও মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন সত্যিকারের সাংবাদিকের পরিচয়।"
দিনারপুর কলেজের অধ্যক্ষ তনুজ রায় মন্তব্য করেন, "জসীম ও তাজুল শুধু সাংবাদিক নয়, তারা মানবতার প্রতিচ্ছবি। তাদের মতো মানুষ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা।"
জসীম উদ্দীন ও তাজুল ইসলামের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, বরং সামাজিক প্রতিদ্বন্দ্বীতার এক শক্তিশালী মাধ্যম। সংকটের মুহূর্তে কলমের পাশাপাশি কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়ে তারা কেবল সংবাদকর্মী হিসেবেই নন, মানবতার অগ্রদূত হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা সমাজের সকলের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।