


চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা শুধু অভিনয় জগতে নয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে থাকা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক ছিলেন, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক ঘটনা এবং রণাঙ্গনের বীরত্বকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছিল।
বর্তমানে বয়সের ভারে তিনি নিয়মিত ক্যামেরার সামনে দেখা না গেলেও চলচ্চিত্র এবং দেশের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা অটুট আছে। বার্ধক্যকে অগ্রাহ্য করে তিনি এখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয় ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মতামত প্রকাশ করে থাকেন।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে গঠিত জোট নিয়ে সোহেল রানা তার ভাবনাটি ব্যক্ত করেছেন। রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই জোটের প্রসঙ্গ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এনসিপি নেতৃত্ব দাবি করলেও যে তাদের জোট আদর্শগত আপস নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর কেন্দ্রিত—তার প্রেক্ষাপট নিয়েও সোহেল রানা মন্তব্য করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “সেই তো তোদের আসল রূপ দেখালি, তবে এত দিন জনগণকে কেন বোকা বানালি।” যদিও পোস্টে সরাসরি এনসিপির নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে কমেন্টের মাধ্যমে তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
রাজনীতিতে একজন ছাত্রনেতা হিসেবে সক্রিয় জীবন শুরু করা সোহেল রানা মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সরাসরি রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন এবং ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রে প্রযোজক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই চলচ্চিত্রে মূল চরিত্রগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদেরকেই অভিনয় করানো হয়েছিল, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে আরো প্রাণবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করেছে।
সোহেল রানা যে শুধু একজন অভিনেতা বা প্রযোজকই নন, বরং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধসম্পন্ন একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতে সচেতন ব্যক্তিত্ব—এটাই এই মন্তব্য ও কার্যকলাপের মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে।