Date: April 19, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / ঢাকা / টাকার বিনিময়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নিলো কলেজ - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

টাকার বিনিময়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নিলো কলেজ

February 26, 2026 03:41:23 PM   অনলাইন ডেস্ক
টাকার বিনিময়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নিলো কলেজ

সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে টাঙ্গাইল সরকারি মহিলা কলেজে এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই কলেজটিতে পরীক্ষা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল সরকারি মহিলা কলেজ-এ এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। এ ঘটনায় কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, টেস্ট পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আবারো পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়। এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই চার কিংবা পাঁচটি বিষয়ে ফেল করেছিলেন।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয় ২০ জানুয়ারি এবং ফলাফল প্রকাশ করা হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি। দ্বাদশ শ্রেণির মোট ১১০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৯১ জন বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য হন। ইংরেজি, আইসিটি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে ফেল করার সংখ্যা বেশি ছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার দুপুর পর্যন্ত কলেজের একাধিক শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা চলছিল। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিক্ষকরা কিছুটা বিব্রত হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, এসব অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বিষয়ে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, এই অর্থ কলেজের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের এক শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, দুই বা ততোধিক বিষয়ের জন্য তারা টাকা দিয়েছেন এবং তাদের মতো আরও অনেকেই একইভাবে অর্থ জমা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা জাহান বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আবেদনের পর কাউন্সিলের মিটিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার মধ্যেই কেন পরীক্ষা নেওয়া হলো—এ প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব তিনি দিতে পারেননি। একই সঙ্গে তিনি পরীক্ষার বিনিময়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লায়লা আঞ্জুমান বানু জানান, রমজান উপলক্ষে বর্তমানে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।