


পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তন এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে বর্তমান বিধায়ক ও টালিউড অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক-কে বাদ দিয়ে নতুন মুখকে মনোনয়ন দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। তবে এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত নন কাঞ্চন নিজেই—তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন।
পাঁচ বছর আগে উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে জয়ী হন কাঞ্চন মল্লিক। অভিনয়জগৎ থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি দায়িত্ব নেন একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এবার দল নতুন মুখে আস্থা রাখায় প্রশ্ন উঠেছে—কেন ভরসা হারাল দল?
এই জল্পনার মধ্যেই মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় দেখা যায়, উত্তরপাড়া থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পুত্র। এতে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে আসেন কাঞ্চন মল্লিক।
একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাঞ্চন বলেন, তাকে আগেই দলীয়ভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার কথাও হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এটি সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্ত এবং তিনি সেটিকে সম্মান করেন। বিধায়ক না থাকলেও তিনি দলের কর্মী হিসেবেই কাজ করে যাবেন এবং ‘দিদি’র পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন।
তবে রাজনৈতিক অন্দরে আলোচনা, সাম্প্রতিক সময়ে কাঞ্চনের সঙ্গে দলের একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে তাকে তেমন সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি—এমন অভিযোগ রয়েছে। বিরোধীদের কটাক্ষ, বিধায়ককে এলাকায় পাওয়া কঠিন ছিল, যা ডুমুরের ফুল দেখার মতো বিরল। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাঞ্চন দাবি করেন, তাকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে।
এদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, উত্তরপাড়ার অবকাঠামোগত সমস্যা, যেমন খারাপ রাস্তাঘাট, বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা কিংবা কাঁঠালবাগান এলাকায় আন্ডারপাস বা ওভারব্রিজের দাবি—এসব ইস্যুতে কাঞ্চনের ভূমিকা সন্তোষজনক ছিল না। এসব বিষয়ই দলীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উত্তরপাড়ায় প্রার্থী পরিবর্তন শুধু একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে নানা রাজনৈতিক সমীকরণ ও স্থানীয় বাস্তবতা—যার পূর্ণ চিত্র এখনো আড়ালেই রয়ে গেছে।