


মৌলভীবাজারের জুড়ীতে উপজেলা বাউল শিল্পী সংগঠনের অভিষেক ও শীতকালীন লোক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় শহরের শিশুপার্কে জমকালো আয়োজনে সভাপতি ইকবাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আরিফ হারুন’কে নিয়ে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
এর পরপরই বাউল শিল্পীরা মেতে উঠেন বাউল আব্দুল করিমের লোক সঙ্গীত পরিবেশনায়। শীতের ভরা যৌবন হেরে গেছে এক ঝাঁক তরুন-তরুনী ও যুবকের যৌবনের কাছে। তারা হলেন জুড়ী উপজেলা বাউল সংগঠনের কলা কুশলী। শ্রোতাদের আন্তরিকতা যেন ভুলার মতো নয়। শীতের সন্ধ্যাকে জমিয়ে রেখেছিলেন শিল্পী জয়রানী প্রীতি, তৃষ্ণা আচার্য্য, বৈজয়ন্তী ভট্টাচার্য্য পাপড়ী ও শিল্পী দুর্ল্যভ আচার্য্য।
জুড়ীর সঙ্গীতাঙ্গণের উজ্জ্বল নক্ষত্র মাহবুবুল ইসলাম কাজল ও মামুনুর রশিদ সাজুর যৌথ সঞ্চালনায় সঙ্গীতানুষ্ঠানটির বর্ণিল আলোক সজ্জা ছিল নজর কাড়ার মতো। শিশুপার্কে সন্ধ্যা রাতে শুরু হওয়ার পর থেকেই কানায় কানায় পরিপূর্ণ শ্রোতাদের অনেককেই গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে গান শুনতে দেখা যায়।
সংগঠনটির কথা, আমরা যার জন্য বেঁচে রয়েছি সেই স্রষ্টার আমরা আল্লাহ-ভগবান যাই বলি না কেন সেই পরমেশ্বরের গুনকীর্ত্তন করতেই আমরা গন করি। রাত সাড়ে ১০টায় আসর কাঁপালেন শিল্পী দীপন আচার্য্য। ১১টায় উঠলেন বাউল শিল্পী বাবুল আহমেদ, এরপর একে একে বাউল শিল্পী আইজুল ইসলামের “তুমি আমায় যা দিয়েছো” গানটির সাথে সাথে ঢোলক মানিক মিয়াকে মঞ্চে উঠে নেচে নেচে ঢোল বাজাতে দেখা যায়।
শিল্পী মনু মিয়ার “নদীর তীরে মধুর সুরে” গানটি বেশ মধুর লেগেছে। ১১টা ৪১ মিনিটে মঞ্চে উঠলেন শিল্পী রিয়া মনি। শ্রীমঙ্গল থেকে আগত শিল্পী বিজনের কন্ঠে “আমি আর কতকাল থাকব রাধা গো, দুয়ারে দাঁড়াইয়া” গানটিও শ্রোতাদের কেড়েছে। রাত ১২টায় সম্মিলিত শিল্পীদের “আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম” গানটির মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।