Date: April 19, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / জাতীয় / গণভোটে সরকারের প্রকাশ্য ‘হ্যাঁ’ সমর্থন নিয়ে ব্যাখ্যা দিল প্রেস উইং - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

গণভোটে সরকারের প্রকাশ্য ‘হ্যাঁ’ সমর্থন নিয়ে ব্যাখ্যা দিল প্রেস উইং

January 18, 2026 09:23:19 PM   দেশেরপত্র ডেস্ক
গণভোটে সরকারের প্রকাশ্য ‘হ্যাঁ’ সমর্থন নিয়ে ব্যাখ্যা দিল প্রেস উইং

অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ‘হ্যাঁ’ ভোটের সমর্থন গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থি নয় বলে জানাল প্রেস উইং।

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে সমালোচনার জবাবে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বলেছে, এটি সরকারের দায়িত্ব ও সংস্কারমূলক ম্যান্ডেটের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। রোববার (১৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের এই অবস্থান কোনোভাবেই নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার কেবল দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত হয়নি; বরং দীর্ঘদিনের অপশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও গণতান্ত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে সংস্কারমূলক কাঠামো তৈরি করাই সরকারের মূল দায়িত্ব। প্রেস উইং জানায়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত প্রায় ১৮ মাস ধরে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই প্রতিফলন। তাই তার অবস্থান নেওয়াকে কোনো পক্ষপাত বলা যায় না।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়াকে স্বাভাবিক রীতি হিসেবে দেখা হয়। গণভোটে নেতারা তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভোটারদের ওপর ছেড়ে দেন। গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল প্রশ্ন হলো— ভোটাররা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছেন কি না, বিরোধী পক্ষ সমানভাবে প্রচারের সুযোগ পাচ্ছে কি না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য কি না। প্রেস উইং দাবি করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব শর্ত অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

সংস্কার গণভোটকে দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতার জবাব হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এই মুহূর্তে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাব নির্দেশ করে। যে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত, তাদের পক্ষে সংস্কারের পক্ষে কথা বলা পক্ষপাত নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।

আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে প্রেস উইং জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, ফ্রান্স, তুরস্ক ও কিরগিজস্তানের মতো দেশে সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা গণতান্ত্রিক রীতির অংশ হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে এই গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নয়; সংস্কার গৃহীত বা প্রত্যাখ্যাত হলে বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর।

জেলা পর্যায়ে সরকারি সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলায় প্রেস উইং জানায়, প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো সংস্কারের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে স্পষ্ট করা, বিভ্রান্তি দূর করা এবং ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা। বিবৃতির শেষে বলা হয়, সংস্কার প্রশ্নে দ্বিধা বা নীরবতাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভোটারদের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে জনগণের হাতে— এটাই গণতন্ত্রের প্রকৃত নিশ্চয়তা।