


গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে মারধর ও ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি উঠেছে কোনাবাড়ি থানার এএসআই আজিজুল হকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মঙ্গলবার দুপুরে থানায় এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন চৌরাস্তা এলাকার একজন প্রেস ব্যবসায়ী। তার অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার রাত ১০টার দিকে তিনি রুবেল ফিলিং স্টেশনের কাছে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ওই সময় হুট করে একটি সিএনজি অটোরিকশা এসে তার পেছনে থামে এবং তাকে জোর করে ভেতরে তুলে নেওয়া হয়।
দেলোয়ার জানান, তাকে বাইমাইল এলাকার একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চড় মারা হয় এবং পলিথিনে মোড়ানো কিছু ইয়াবা ট্যাবলেট দেখিয়ে ভয় দেখানো হয় যে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হবে। এরপর তার কাছে থাকা নগদ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা কেড়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সিএনজিতে সিফাত নামের আরেকজন যুবককেও আটকে রাখা হয়েছিল। সিফাতের কাছে টাকা না থাকায় তার ভাইকে ফোন করতে বাধ্য করা হয়। তার ভাই দেলোয়ারের মোবাইলে ২ হাজার ৪০০ টাকা পাঠান। পরে পুলিশ সদস্যরা দেলোয়ারকে বাইমাইল এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে নিয়ে গিয়ে তার অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ৭ হাজার ২০০ টাকা তুলে নেন।
দেলোয়ারের দাবি, টাকা নেওয়ার পর তার ছবি তুলে রাখা হয় এবং কাউকে কিছু বললে বড় বিপদের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর তাকে মাত্র ৪০০ টাকা ফেরত দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি জানান, রাতেই কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আসেন।
এই বিষয়ে সিফাত নামের ওই যুবক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে তাকে ভয় দেখানো হয়েছে বলে তিনি বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। অন্যদিকে অভিযুক্ত এএসআই আজিজুল হক তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি জেনেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতেই দোষী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।