Date: April 21, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / কুড়িগ্রামে প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

কুড়িগ্রামে প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ

September 07, 2025 12:34:33 PM   দেশেরপত্র ডেস্ক
কুড়িগ্রামে প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে একটি ঘৃণিত ঘটনায় নিখোঁজ আট বছরের শিশুর লাশ প্রতিবেশীর বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ পাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত যুবক ও তার নানার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ছিট মালিয়ানি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশু মুরসালিন মিয়া (৮) ওই এলাকার মশিউর রহমান মুছা ও মনজু দম্পতির ছোট ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মমিনুল ইসলাম (২২) শিশুটিকে বলাৎকার করে হত্যা করেছে এবং লাশ গুম করার চেষ্টা করেছে। ঘটনার পর থেকে মমিনুল পলাতক রয়েছে।

মরদেহ পাওয়ার পর এলাকাবাসী অভিযুক্ত মমিনুল ও তার নানার বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত মমিনুল ইসলামের মা মহসেনা বেগম ও বোন ফাহিমা খাতুন এবং মমিনুলের পরিবারকে প্রশ্রয় দিয়ে পালানোয় সহযোগিতা করার অভিযোগে প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মঞ্জু বেগমকেও আটক করে পুলিশ। নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আটক চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পরিবারের বরাত অনুযায়ী, শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুরসালিনের বাড়িতে তার বড় ভাইয়ের বিয়ের আলোচনা চলছিল। এ সময় মমিনুল ইসলাম শিশুটিকে একাধিকবার ডেকে পাঠায়। পরে তাকে ঘরে নিয়ে মোবাইলে ভিডিও দেখিয়ে বলাৎকার করে হত্যা করে।শিশুর মা শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ছেলেকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে মমিনুল ও তার মা মুরসালিনকে দেখেনি বলে জানালে, স্বজনরা সন্দেহজনক অবস্থায় বিষয়টি তদন্ত শুরু করেন। শনিবার রাতে মমিনুলের বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে মরদেহ দেখতে পান।

নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মোফাজ্জল হোসেন জানান, দুটি বাড়ির পাঁচটি ঘরে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে আগে ভিতরের আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম রেজা জানিয়েছেন, নিহত শিশুর বাবা মশিউর রহমান বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আটক চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং বাকিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।