


নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে আইএলও কনভেনশন ১৯০ বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী একটি কর্মশালা শেষ হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) রামপুরার বনশ্রীতে নারী উন্নয়ন শক্তির (এনইউএস) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
নারী উন্নয়ন শক্তি আয়োজিত এই কর্মশালায় সহযোগিতা করে টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ, শিলিড, ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট এবং ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল আইএলও কনভেনশন ১৯০ সম্পর্কে গভীর ধারণা দেওয়া, দক্ষ অ্যাডভোকেট তৈরি করা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করা।
সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ড. আফরোজা পারভীন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। বিশেষ করে নারীদের জন্য সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কনভেনশন ১৯০ এর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন বলেন, শ্রমিকরাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।
ড. সুলতান মুহাম্মদ রাজ্জাক বলেন, এটি শুধু শ্রমিকের বিষয় নয়, এটি মানবাধিকারের বিষয়। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য কাজী দিলরুবা জেফু, এফসিএইচডির চেয়ারপারসন শাহিদা ওয়াহাব, শিলিডের নির্বাহী সদস্য সেলিনা আক্তার এবং ওয়াইডব্লিউডিআরসির প্রোগ্রাম অফিসার সেলিনা খাতুন।
বক্তারা নারী শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে যৌন হয়রানি, মানসিক চাপ, অনিরাপদ পরিবেশ, বেতন বৈষম্য, অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থার অভাব এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে আইনি সুরক্ষার অভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চাকরি হারানোর ভয়ে অনেক নারী শ্রমিক এসব বিষয়ে মুখ খুলতে পারেন না বলেও জানান তারা।
কর্মশালা থেকে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কনভেনশন ১৯০ দ্রুত বাস্তবায়নের রূপরেখা ঘোষণা করা, অনানুষ্ঠানিক খাতকে আইনের আওতায় আনা, নারী শ্রমিকদের ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা এবং সরকারি আইন অনুযায়ী ডে কেয়ার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা। এছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অ্যান্টি হ্যারাসমেন্ট কমিটি গঠন, নারীদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা, জেন্ডার পলিসি প্রণয়ন এবং দেশব্যাপী সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর জোর দাবি জানানো হয়।