Date: May 15, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / কর্ণাটকে স্কুল-কলেজে হিজাব ও ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে নতুন নীতি: বিতর্কিত নির্দেশনা প্রত্যাহার - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্...

কর্ণাটকে স্কুল-কলেজে হিজাব ও ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে নতুন নীতি: বিতর্কিত নির্দেশনা প্রত্যাহার

May 15, 2026 01:39:06 PM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কর্ণাটকে স্কুল-কলেজে হিজাব ও ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে নতুন নীতি: বিতর্কিত নির্দেশনা প্রত্যাহার

ভারতের কর্ণাটক রাজ্য সরকার ২০২২ সালের বহুল আলোচিত স্কুল ইউনিফর্ম সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নতুন একটি নীতিমালা জারি করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত ইউনিফর্মের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত পরিসরে হিজাব, পৈতা, পাগড়ি, রুদ্রাক্ষসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীক পরিধান করতে পারবে। সরকারের এই পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২২ সালে কর্ণাটকে স্কুল ইউনিফর্ম নীতিকে কেন্দ্র করে হিজাব বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছিল। সেই সময় রাজ্য সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীক পরিধান নিষিদ্ধ করে কঠোর ইউনিফর্ম কোড চালু করেছিল। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

নতুন জারি করা নির্দেশনায় সেই পুরনো নীতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা ইউনিফর্মের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে, তবে তা যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, পরিচয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা কিংবা শিক্ষা কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না করে। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থীকে এসব প্রতীক পরার কারণে ক্লাস, পরীক্ষা বা অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, আবার কাউকে জোর করে এসব খুলতেও বাধ্য করা যাবে না।

সরকার আরও স্পষ্ট করেছে যে, জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত ড্রেস কোড আগের মতোই কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ধর্ম, সংস্কৃতি বা পোশাকের কারণে কোনো শিক্ষার্থী বৈষম্য বা হয়রানির শিকার না হয়। রাজ্য সরকারের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল পাঠদানের কেন্দ্র নয়, বরং এটি এমন একটি জায়গা যেখানে সমতা, ভ্রাতৃত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মূল্যবোধ গড়ে ওঠে।

এ বিষয়ে কর্ণাটকের শিক্ষামন্ত্রী মধু বাঙ্গারাপ্পা বলেন, অতীতে কিছু শিক্ষার্থীকে ধর্মীয় প্রতীক খুলতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছিল, যা তাদের মানসিকভাবে আঘাত করেছে। তার ভাষায়, শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠন করা, সেখানে ধর্মীয় চর্চা বা পরিচয় কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধী দল বিজেপি। দলটির দাবি, সরকার মূল সমস্যা সমাধান না করে নতুন বিতর্ক তৈরি করছে। অন্যদিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একাংশের নেতারা বলেছেন, যদি হিজাব অনুমোদন করা হয়, তবে হিন্দু শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের ধর্মীয় প্রতীক প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে—যা এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

কর্ণাটক সরকারের নতুন নীতি একদিকে যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষার্থীদের অধিকারকে গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে আবার রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।