


নৃত্যকলায় বিশেষ অবদানের জন্য চলতি বছর একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ। দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এই সম্মাননা পাওয়ার খবরে তিনি যেমন আনন্দিত, তেমনি অনুভব করছেন এক ধরনের আক্ষেপও। রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি নিয়ে নিজের অনুভূতি, সমালোচনা এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরেছেন তিনি।
অর্থী জানান, প্রথমে অন্যদের পাঠানো প্রেস ব্রিফিংয়ের ভিডিও দেখে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। কারণ, তিনি নিজে এই সম্মাননার জন্য কোনো আবেদন করেননি এবং আগেভাগে এ বিষয়ে কোনো ধারণাও ছিল না। খবরটি পাওয়ার পর তিনি কয়েক জায়গায় যাচাই করে নিশ্চিত হন।
দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি নিয়ে তিনি বলেন, এতে তিনি যেমন আনন্দিত ও গর্বিত, তেমনি বিস্মিতও হয়েছেন। এমন সম্মাননা যে কারও জন্যই আনন্দের বিষয় হলেও তা মেনে নিতে তার কিছুটা সময় লেগেছে। একইসঙ্গে তার মন খারাপ হয়েছে সেই সব সিনিয়র নৃত্যশিল্পীদের জন্য, যারা এখনো এই স্বীকৃতি পাননি। তবে রাষ্ট্র যদি তাকে এই সম্মাননা দিতে চায়, তা ফিরিয়ে দেওয়া অসম্মানের শামিল হবে বলেও তিনি মনে করেন।
এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে বেশিরভাগই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন বলে জানান অর্থী। তবে অনেকেই তাদের শিক্ষকদের জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তার নিজেরও মন খারাপ হয়েছে তার শিক্ষক লুবনা মরিয়মের জন্য। অর্থীর মতে, বর্তমান সময়ে একুশে পদকের জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের একজন তিনি।
সম্মাননা পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হওয়া সমালোচনার বিষয়ে অর্থী বলেন, কম বয়সে বড় সম্মাননা পাওয়ার বিষয়টি আমাদের সমাজ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। তিনি মনে করেন, তার কাজের ধরন একটু আলাদা। তিনি নিয়মিত স্টেজ শো বা সামাজিক মাধ্যমে রিলস করেন না, তাই অনেকেই তাকে সরাসরি চিনতে পারেন না। তবে নৃত্যশিল্পীরা তার কাজ সম্পর্কে জানেন বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

মেন্টর লুবনা মরিয়মের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খবরটি শোনার পর সবার আগে তাকেই ফোন করে জানান। তখন তিনি অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, কোনোভাবেই যেন এই সম্মাননা ফিরিয়ে না দেওয়া হয়, তার জন্য হলেও যেন তা গ্রহণ করা হয়। নিজের মেন্টরের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা পাওয়া তার জন্য বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন অর্থী।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অর্থী আহমেদ বলেন, তার কাছে নাচ শুধু একটি শিল্প নয়, বরং ভালো থাকার এবং অন্যকে ভালো রাখার একটি মাধ্যম। নাচের মাধ্যমে তিনি মানুষকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই সম্মাননা পাওয়ার পর তার দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন। ভবিষ্যতে নাচকে শুধু নৃত্যশিল্পীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চান তিনি। নাচকে মানুষের আনন্দের একটি মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং মার্জিত নাচের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে যেতে চান।